অবৈধভাবে অর্থ পাচার একটি বৈশ্বিক সমস্যা

- আপডেট সময় : ০১:১৭:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৪ ৪৮ বার পড়া হয়েছে
বিশেষ প্রতিবেদন: বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের টাকা অবৈধ পথে পাচার হয়ে যায়। এই পরিসংখ্যান সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমে পাওয়া। প্রশ্ন হলো আসলেই কি এই সমস্যা সরকার চাইলেই রোধ করতে পারে?? জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বছরে বৈশ্বিক অবৈধ অর্থ-পাচারের পরিমান ৭১৫ বিলিয়ন থেকে ১.৮৭ ট্রিলিয়ন ডলার।
আমেরিকা থেকে বছরে ১০০-৩০০ বিলিয়ন ডলার, জার্মানি থেকে ১০০ বিলিয়ন ইউরো অবৈধ পথে পাচার হয়। যেখানে আমেরিকা এবং জার্মানির মতো উন্নত দেশগুলো এই সমস্যার মোকাবিলা করতে পারছে না, সেখানে বাংলাদেশের সরকারের কী করার আছে? এমনকি চীনের মতো দেশ, যেখানে কঠোর নজরদারি চলে, সেখানে বছরে ৩০ থেকে ৪৫ বিলিয়ন ডলার অবৈধ পথে পাচার হয়ে যায়।
ইউরোপের ডেনমার্কের অর্থনীতির আকার বাংলাদেশের প্রায় সমান—বাংলাদেশের ৪৫০ বিলিয়ন ডলার এবং ডেনমার্কের ৪১০ বিলিয়ন ডলার। ডেনমার্ক থেকেও বছরে – প্রায় বাংলাদেশের সমপরিমান ৩ বিলিয়ন ডলার অবৈধ পথে পাচার হয়ে যায়।
অবৈধ পথে অর্থ পাচার একটি বৈশ্বিক সমস্যা, ক্যাপিটালিজিমের অন্ধকার দিক। কোন দেশের সরকারের পক্ষে এককভাবে এর মুকাবিলা করা সম্ভবনা। পৃথিবিতে, দুর্ভাগ্যক্রমে, কেম্যান আইলান্ড, আয়ারল্যান্ড, ভার্জিন আইল্যান্ড, বাহামা, লুক্সেমবুর্গ, সুইটজারল্যান্ড, মোনাকো, সিঙ্গাপুরের মত দেশ আছে। যাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তিটা দাড়িয়ে আছে পাচার করা অবৈধ অর্থের উপর ভিত্তি করে।
আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ইউনুস সরকার কিংবা আমেরিকা—কেউই এই পরিস্থিতি থামাতে সক্ষম নয় যতক্ষণ না বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তন করা হয়। চিলে কান নিয়েছে শুনে চিলের পিছে দৌড়ায় আমরা, অপ্রিয় সত্যটা বা ঘটনার পিছের ঘটনাটা জানার কোন চেষ্টায় করিনা।
পরিশেষে, ইন্ডিয়া থেকে প্রতি বছর ৫৯ বিলিয়ন ডলার অবৈধ পথে পাচার হয়, পাকিস্তনে থেকে বছরে পাচার হয় ১০ বিলিয়ন ডলার। প্রতিবেশি দুই দেশের পরিসংখ্যান থেকে মনে হয়; বাংলাদেশ সকল বাধা অতিক্রম করে অর্থ-পাচার রোধে অনেকটাই সফল ছিল?