ঢাকা ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি ::
আমাদের নিউজপোর্টালে আপনাকে স্বাগতম... সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে...

দেশে এখন ১২ কোটি ৩৭ লাখ ভোটার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ মার্চ ২০২৫ ১৩ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক: জাতীয় ভোটার দিবসে প্রতিবারের মতো এবারো হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

জাতীয় ভোটার দিবসে প্রতিবারের মতো এবারো হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, দেশে এখন চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৩২ হাজার ২৭৪। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় ভোটার দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সালের ২ মার্চ দেশে মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার ১৬০ জন। ওই বছর শেষে যোগ হয় আরো ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ৩৫২ জন। এছাড়া রিভাইজিং অথরিটির যাচাই-বাছাইয়ে আরো ৪৮ হাজার ৭৬২ জন যোগ হয়। সব মিলিয়ে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৩২ হাজার ২৭৪-এ; যাদের মধ্যে ৬ কোটি ৩৩ লাখ ৬১ হাজার ৬১৫ জন পুরুষ। নারী ভোটার ৬ কোটি ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৬৬৫ জন। আর ৯৯৪ হিজড়া ভোটার। সে হিসাবে এক বছরে ভোটার বেড়েছে ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

ভোটার দিবস উপলক্ষে গতকাল নির্বাচন ভবনের সামনে শোভাযাত্রা করেন ইসির কর্মীরা। সেখানে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

পরে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সিইসি নির্বাচনে জয়ী হতে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ ও ভোট-সন্ত্রাসের চেষ্টা বা উদ্যোগ না নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে, ভোট-সন্ত্রাস করে আপাতদৃষ্টে জেতা যায়। কিন্তু আখেরে দেশের জন্য, দলের জন্যও ভালো হয় না। শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা দুনিয়ায় এ রকম ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়।’

মানুষ এতদিন ভোট দিতে পারেনি মন্তব্য করে সিইসি বলেন, ‘এখন ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ এসে গেছে। ঐকমত্য কমিশন হয়েছে, ওনারা যদি একটা কাজ করতেন যে যখন দলগুলোকে ডাকেন, তাদের যদি জিজ্ঞেস করা হতো—আপনারা কি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চান? যদি চায়, তাহলে তাদের কাছ থেকে সই নেয়া উচিত যে নির্বাচনী আচরণবিধি মানবেন, আপনার দলের প্রার্থী যদি কোনো গোলমাল করে, তাহলে দলীয়ভাবে অ্যাকশন নেবেন এবং সুন্দর একটা নির্বাচনের জন্য সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করবেন। যদি এভাবে লিখিত নেয়া হয়, তাহলে সেটা দলগুলোর ওপর চাপ হিসেবে কাজ করবে। নির্বাচন কমিশনের কাজও সহজ হয়ে যাবে।’

সিইসি নাসির উদ্দিন জানান, রাজনৈতিক দলগুলো যার যার দৃষ্টিকোণ থেকে বক্তব্য দেবে। এটা ভিন্ন ভিন্ন হবে, এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। রাজনৈতিক দলগুলো যখন বিপরীতমুখী বক্তব্য দেয়, তখন তিনি আশাহত হন না। তিনি বিশ্বাস করেন, দলগুলো একপর্যায়ে একমত হবে।

আগামী ৩০ জুনের মধ্যে আরো একটি ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হবে জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। ভোটার তালিকা আইন অনুযায়ী ২ মার্চ ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করতে হয়। এর মধ্যে আবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে হচ্ছে। এর জন্য জুনের মধ্যে আরেকটা ভোটার তালিকা প্রস্তুত হয়ে যাবে। এজন্য ইসির কর্মকর্তারা দিন-রাত কাজ করছেন।’

নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন কঠিন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইসি ভালো নির্বাচন করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। জুলাই আন্দোলনের রক্তের সঙ্গে যাতে প্রতারণা না হয় সেজন্য একটি ভালো নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।’

নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের জন্য বদ্ধ ঘরের পরিবর্তে খোলা মাঠে ভোটের আয়োজনের কথা বলেন। আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘চারিদিকে সংস্কার আর সংস্কার, ইসিতে কি সংস্কার হবে না? স্বচ্ছতা নিশ্চিতে খোলা মাঠে ভোট করতে চাই, আবদ্ধ রুমে নয়। এজন্য সবার সহযোগিতা চাই।’

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলতে কেউ বলে সব দলের অংশগ্রহণ। আমি মনে করি এর পাশাপাশি জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। বর্তমান কমিশন কথায় নয়, তা কাজে দেখাতে চায়। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে আইন ও বিধি অনুযায়ী কাজ করবে কমিশন।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দেশে এখন ১২ কোটি ৩৭ লাখ ভোটার

আপডেট সময় : ০৫:০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ মার্চ ২০২৫

জাতীয় ডেস্ক: জাতীয় ভোটার দিবসে প্রতিবারের মতো এবারো হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

জাতীয় ভোটার দিবসে প্রতিবারের মতো এবারো হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, দেশে এখন চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৩২ হাজার ২৭৪। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় ভোটার দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সালের ২ মার্চ দেশে মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার ১৬০ জন। ওই বছর শেষে যোগ হয় আরো ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ৩৫২ জন। এছাড়া রিভাইজিং অথরিটির যাচাই-বাছাইয়ে আরো ৪৮ হাজার ৭৬২ জন যোগ হয়। সব মিলিয়ে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৩২ হাজার ২৭৪-এ; যাদের মধ্যে ৬ কোটি ৩৩ লাখ ৬১ হাজার ৬১৫ জন পুরুষ। নারী ভোটার ৬ কোটি ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৬৬৫ জন। আর ৯৯৪ হিজড়া ভোটার। সে হিসাবে এক বছরে ভোটার বেড়েছে ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

ভোটার দিবস উপলক্ষে গতকাল নির্বাচন ভবনের সামনে শোভাযাত্রা করেন ইসির কর্মীরা। সেখানে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

পরে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সিইসি নির্বাচনে জয়ী হতে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ ও ভোট-সন্ত্রাসের চেষ্টা বা উদ্যোগ না নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে, ভোট-সন্ত্রাস করে আপাতদৃষ্টে জেতা যায়। কিন্তু আখেরে দেশের জন্য, দলের জন্যও ভালো হয় না। শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা দুনিয়ায় এ রকম ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়।’

মানুষ এতদিন ভোট দিতে পারেনি মন্তব্য করে সিইসি বলেন, ‘এখন ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ এসে গেছে। ঐকমত্য কমিশন হয়েছে, ওনারা যদি একটা কাজ করতেন যে যখন দলগুলোকে ডাকেন, তাদের যদি জিজ্ঞেস করা হতো—আপনারা কি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চান? যদি চায়, তাহলে তাদের কাছ থেকে সই নেয়া উচিত যে নির্বাচনী আচরণবিধি মানবেন, আপনার দলের প্রার্থী যদি কোনো গোলমাল করে, তাহলে দলীয়ভাবে অ্যাকশন নেবেন এবং সুন্দর একটা নির্বাচনের জন্য সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করবেন। যদি এভাবে লিখিত নেয়া হয়, তাহলে সেটা দলগুলোর ওপর চাপ হিসেবে কাজ করবে। নির্বাচন কমিশনের কাজও সহজ হয়ে যাবে।’

সিইসি নাসির উদ্দিন জানান, রাজনৈতিক দলগুলো যার যার দৃষ্টিকোণ থেকে বক্তব্য দেবে। এটা ভিন্ন ভিন্ন হবে, এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। রাজনৈতিক দলগুলো যখন বিপরীতমুখী বক্তব্য দেয়, তখন তিনি আশাহত হন না। তিনি বিশ্বাস করেন, দলগুলো একপর্যায়ে একমত হবে।

আগামী ৩০ জুনের মধ্যে আরো একটি ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হবে জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। ভোটার তালিকা আইন অনুযায়ী ২ মার্চ ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করতে হয়। এর মধ্যে আবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে হচ্ছে। এর জন্য জুনের মধ্যে আরেকটা ভোটার তালিকা প্রস্তুত হয়ে যাবে। এজন্য ইসির কর্মকর্তারা দিন-রাত কাজ করছেন।’

নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন কঠিন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইসি ভালো নির্বাচন করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। জুলাই আন্দোলনের রক্তের সঙ্গে যাতে প্রতারণা না হয় সেজন্য একটি ভালো নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।’

নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের জন্য বদ্ধ ঘরের পরিবর্তে খোলা মাঠে ভোটের আয়োজনের কথা বলেন। আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘চারিদিকে সংস্কার আর সংস্কার, ইসিতে কি সংস্কার হবে না? স্বচ্ছতা নিশ্চিতে খোলা মাঠে ভোট করতে চাই, আবদ্ধ রুমে নয়। এজন্য সবার সহযোগিতা চাই।’

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলতে কেউ বলে সব দলের অংশগ্রহণ। আমি মনে করি এর পাশাপাশি জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। বর্তমান কমিশন কথায় নয়, তা কাজে দেখাতে চায়। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে আইন ও বিধি অনুযায়ী কাজ করবে কমিশন।’