ক্যাম্পাসে গেলেই নির্যাতিত ও আটক; অন্ধকারে ছাত্রলীগের ভবিষ্যৎ

- আপডেট সময় : ০৩:৩৯:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৪ ৫০ বার পড়া হয়েছে
আবুল কালাম আজাদ,রাজশাহী: ফেরারির মতো ছুটছে ছাত্রলীগ, অনিশ্চিতার ভবিষ্যতের সাগরে অর্ধনিমর্জিত পুরোন এই ছাত্র সংগঠনের নেতা,কর্মী ও সমর্থকেরা। মাত্র আড়াই মাস আগেও যারা ছিলেন একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য,আজ তারা আত্মগোপনে ও ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন।
গত আগস্টে ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের ফলে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয় এবং শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। পরে নতুন অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করার পর হাজারো ছাত্র এখন সহিংসতা, গ্রেফতার ও প্রতিশোধের ভয়ে জীবন যাপন করছেন।
ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে সহিংসতা, হয়রানি ও গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ এনে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্রলীগকে একটি ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করে নিষিদ্ধ ঘোষনা করেন।
রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজে নিজ বিভাগে পরীক্ষা দিতে এসে সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাজশাহী মহানগর শাখার পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস প্রিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ।
রোববার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে পরিক্ষার হলে অবস্থানকালে অন্য শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন এই নেত্রী। পরে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে তাঁকে নগরের বোয়ালিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে কলেজ প্রশাসন।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ছাত্রলীগের এই নেত্রী সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নানাভাবে হুমকি ধামকি, আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের নামের তালিকা করে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের কাছে পাঠিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়নের স্নাতকের শিক্ষার্থী ফাহমি বলেন, কিছুদিন আগে আমি এখানে কর্তৃত্বের কণ্ঠস্বর ছিলাম। এখন আমি ফেরারির মতো ছুটছি, যার সামনে কোনো ভবিষ্যৎ নেই।হাসিনা বিরোধী বিক্ষোভের সময় জনগণের বিরুদ্ধে সরকারের দমন–পীড়নে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেননি। আমার বোনেরা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। আমিও মনে করতাম, দাবি সঠিক। কিন্তু আমি দলীয় বাধ্যবাধকতায় নিরব ছিলাম।
সরকারি চাকরিতে বিতর্কিত কোটাব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে গত জুলাইয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, যা পরে হাসিনার ‘স্বৈরাচারী’ শাসনের বিরুদ্ধে গণবিদ্রোহে রূপ নেয়। সরকারের প্রতিক্রিয়া ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তাক্ত অধ্যায়গুলোর মধ্যে একটি। কারণ, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের মারধর করে। তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাসের শেল ও গুলি ছোড়ে। তিন সপ্তাহে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন। হাজারো মানুষকে গ্রেফতার করা হয়।
গত ৫ আগস্ট প্রতিবাদী ছাত্র-জনতা শেখ হাসিনার বাসভবন, সংসদ ভবনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোয় হামলা চালান। ৭৭ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী একটি সামরিক হেলিকপ্টারে করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। হাসিনার পতনের পর ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের শত শত সদস্য ও রাজনীতিবিদরা হামলার শিকার হন। অনেকে আত্মগোপনে চলে যান। কিংবা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে আটক হন।
এখন,ছাত্রলীগ নেতা,কর্মী এমন কি সমর্থকেরা ক্লাসে যাওয়া এমন কি কোন পরিক্ষায় অশ নিতে পারছেনা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্যাম্পাসে পা রাখলে নানা অভিযোগে নির্যাতন,হয়রানি, মারধর ও গ্রেফতার করা হচ্ছে।
দেশে আওয়ামী লীগের প্রায় ৫০ হাজার ছাত্র লীগ কর্মী অচলাবস্থায় ভুগছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেত্রী শাহরিন আরিয়ানা। পরিবার বলেছে, ১৮ অক্টোবর তাঁকে ‘ভুয়া’ অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।
টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা দিতে গিয়ে শাহরিন আটক হন। একই দিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক ছাত্রলীগ নেতা সৈকত রায়হানকে গ্রেফতার করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবর রহমান জানান, ছাত্রলীগের কোনো নেতার সঙ্গে পরীক্ষায় বসতে রাজি হননি অন্য শিক্ষার্থীরা। এজন্য তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
২৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে এসে আরো দুই ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার হন—ফিন্যান্সের ছাত্র আবুল হাসান সাইদী এবং নৃবিজ্ঞানের ছাত্র কাজী শিহাব উদ্দিন তৈমুর।প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। সে অনুযায়ী তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঢেউ ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শামীম আহমেদকে ১৮ সেপ্টেম্বর পিটিয়ে হত্যা করা হয় এবং ৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে মাসুদ নামে এক ছাত্রলীগ নেতা নিহত হন।
সর্বশেষ ২৭ অক্টোবর রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজে নিজ বিভাগে পরীক্ষা দিতে এসে সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাজশাহী মহানগর শাখার পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস প্রিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ।
রোববার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে পরিক্ষার হলে অবস্থানকালে অন্য শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন এই নেত্রী। পরে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে তাঁকে নগরের বোয়ালিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে কলেজ প্রশাসন।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ছাত্রলীগের এই নেত্রী সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নানাভাবে হুমকি ধামকি, আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের নামের তালিকা করে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের কাছে পাঠিয়েছেন।
এদিকে গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে । এতে দেখা যায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে গাড়িতে উঠানোর চেষ্টা করলে প্রিয়া ’মুজিব সেনার স্মরণে, ভয় করি না মরণে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন । যা সামাজিক যোগাযো মাধ্যমে ভাইরাল হয়
তাকে ঐদিন বিকেলে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে।
হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে এবং ২৩ অক্টোবর এক গেজেটে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে (২০০৯) ছাত্রলীগকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করে। ২০০৯ সালে হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই এই আইন পাস করা হয়েছিল।ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতৃত্বে দেশব্যাপী বিক্ষোভের পর এই সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।